বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ন

আমতলী প্রতিনিধিঃ আমতলী উপজেলার উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের চাচাতো ভাই ফরিদ সিকদারকে রক্ষা করতে এসে জহিরুল সিকদার আরেক চাচাতো ভাই মুনসুর সিকদারের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে শনিবার দুপুরে। পুলিশ ঘাতক মুনসুর সিকদারকে গ্রেফতার করেছ।
জানাগেছে, উপজেলার উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের আপন দুই ভাই ফরিদ সিকদারের সঙ্গে মুনসুর সিকদারের ১০ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে ফরিদ সিকদার ওই জমি চাষাবাদ করতে যায়। খবর পেয়ে মুনসুর সিকদার একটি ছুরি নিয়ে তাকে ধাওয়া করে। এ সময় তিনি দৌড়ে পালানোর সময় মুনসুর তাকে লক্ষ করে ছুরি নিক্ষেপ করে। ওই ছুরি গিয়ে তার পায়ে পরে। তার ডাকচিৎকারে চাচাতো ভাই জহিরুল সিকদার ছুটে আসে। এ সময় ঘাতক মুনসুর সিকদারকে তিনি নিবৃত করতে চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে ঘাতক মুনসুর তার পেটে ছুরিকাঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। ওই হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জান তাকে মৃত্যু ঘোষনা করেছেন। খবর পেয়ে আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন ও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক মুনসুর সিকদারকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসেন। পুলিশ এ সময় ঘাতক মুনসুরের স্ত্রী শেফালী বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শী সজিব সিকদার বলেন, মুনসুর সিকদারের ছেলে জাকির সিকদার জমিজমা নিয়ে বংশের সকলের সাথেই ঝামেলা তৈরি করে আসছে। তার নির্দেশেই ১০ শতাংশ জমির বিরোধে আমার বাবা ফরিদ সিকদারকে ছুরিকাঘাত করতে যায়। আমার বাবাকে রক্ষায় চাচা জহিরুল সিকদার এগিয়ে আসলে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা কররেছে।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান বলেন, নিহত জহিরুল সিকদারকে হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছে। তার পেটে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
আমতলী থানার ওসি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন ঘটনায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে ।
আমতলী-তালতলী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ঘাতক মুনসুর সিকদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply